৪০ বছর পর বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪০-৫০ শতাংশ মাসুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর। ব্যবসায়ীদের ‘বন্দর অচল’ করে দেয়ার হুমকির মুখে বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেকটা বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। রবিবার দুপুরে এমন সিদ্ধান্ত আসায় বন্দরের পণ্য পরিবহণসহ অন্য কার্যক্রম সচল হয়েছে।
বর্ধিত মাশুলের প্রতিবাদে ট্রাক, কার্ভাডভ্যান, প্রাইম মুভার মালিকদের আন্দোলনের মধ্যেই রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দরে যানবাহন প্রবেশ ফি আগের মতোই থাকছে।
এমন সিদ্ধান্ত পেয়ে পরিবহন মালিকেরা বন্দরে তাদের গাড়ি প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। বন্দরে গাড়ি প্রবেশের ঘোষণার পর বন্দরকেন্দ্রিক আশপাশের সব সড়কে ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সবগুলো ট্রাকই ছিল বন্দরমুখী। এতে যানজটে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ে।
মাসুল স্থগিত করার বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ মাশুল যেটা বৃদ্ধি করা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেটা স্থগিত থাকবে।’ তিনি বলেন, এ বিষয়ের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি এবং দেশের অর্থনীতি জড়িত। তাই দেশের স্বার্থে এ কার্যক্রমটা (বন্দরে গাড়ি প্রবেশ) দ্রুত চালু হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র যানবাহন খাতে যে ট্যারিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে সেটা স্থগিত থাকবে।’
মাশুলের হার পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন করার পর তা জানানো হবে।’
এর আগে ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মাসুল চালু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। এর জেরে শনিবার নেভি কনভেশন হলে সভা করে ‘বন্দর অচল’ করে দেয়ার হুমকি দেয় ব্যবসায়ী গঠনের নেতারা। এমন হুমকির পর বন্দর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং পরদিন রোববার দুপুরের মধ্যেই বন্দর সচল করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ৪০ বছর পর মাসুল বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অতিরিক্ত বাড়ানো হয়েছে মাসুল। সেবার মাসুল ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ফলে ব্যবসায়ীদের খচর বাড়বে এবং সেটা ভোক্তাদের ওপর বর্তাবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মাসুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রতিবাদে ট্রাক, কর্ভাডভ্যান, প্রাইম মুভার মালিকদের ডাকে শনিবার থেকে বন্দরে ট্রাক, কর্ভাডভ্যান ও প্রাইম মুভার প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। সিএন্ডএফ এজেন্টগুলো রবিবার থেকে ৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করে। এমতাবস্থায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ দুপুর ১২টায় বৈঠকের আয়োজন করে। সেই বৈঠকের পর নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পতাকানিউজ/কেএস

