৭ মাস বয়সী শিশু আপাতত থাকবে তার ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মায়ের কাছে। মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ঢাকা জেলা লিগাল এইড কর্মকর্তা মো. সায়েম খান এ আদেশ দেন।
তবে পারিবারিক আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন চূড়ান্তভাবে শিশুটি মায়ের জিম্মায় না বাবার জিম্মায় থাকবে।
রাজধানীর হাজারীবাগের ওই কিশোরীকে নিয়ে কয়েকদিন ধরেই দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় টিকটকের মাধ্যমে শাকিল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে নোটারির মাধ্যমে কথিত বিয়ের কাগজ তৈরি করা হয়।
পরিবারের দাবি, কোনো বৈধ কাবিন হয়নি। পরবর্তীতে কিশোরী সন্তান জন্ম দেন। কয়েক মাস পর শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়। এরপর চলতি বছরের ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন কিশোরী।
লিগ্যাল এইডের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আজ ওই আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে লিগ্যাল এইট কর্মকর্তা মো. সায়েম খান শিশুটিকে আপাতত মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৭ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশুটি আপাতত তার মায়ের কাছেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, প্রচলিত আইন ও তার দুগ্ধপোষ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়টি পারিবারিক আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা আদেশে বলেন, কিশোরী টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও করতে পারবে না। কিশোরী এ বিষয়ে অঙ্গীকার করে বলেছে, সে আপাতত টিকটক বা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করবে না।
প্রসঙ্গত, কিশোরীর স্বামী শাকিল মিয়া শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে ঢাকা পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন। সে মামলায় আদালত যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, ভবিষ্যতে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
কিশোরীর আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র বলেন, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সমঝোতা সফল না হয় আপাতত তিনি শিশুকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভিকটিমের মা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এখন পরিবার মিলে শিশুটিকে লালন-পালন করবে। শুনানিতে কিশোরীকে শর্ত দেওয়া হয়েছে—তিনি টিকটক করবেন না এবং অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না। শিশুর দেখভালেই মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, কথিত বিয়ে, যৌন নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে কিশোরীর পরিবার।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

