প্রায় ১৭ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখন দেশে ফিরছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।
দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন যেন সবচেয়ে কার্যকর সময়ে হয়। তবে, তার দেশে ফেরা নির্বাচনী প্রস্তুতিকে গতি দেবে।
দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই তিনি দেশে ফিরবেন।
গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রোজার আগেই অনুষ্ঠিত হবে। এর পরদিন নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো আইনি বাধা নেই। তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তাকে হত্যার টার্গেটে রেখেছে। গত মে মাসে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তারের পর এমন চক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করছে। ফলে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানকে নিষ্ক্রিয় বা নির্মূল করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার পরিকল্পনা
২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হলেও লন্ডনে থাকার কারণে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। চলতি বছরের মে মাসে দেশে ফিরে ভোটার হয়েছেন জোবাইদা রহমান।
দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নাম তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, সরাসরি দেশে ফিরে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং ‘ক্লিন ইমেজ’ তুলে ধরতে পারবেন তারেক রহমান।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশে ফেরার আগে তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
পতাকানিউজ/এআই

