ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর ভাষ্য, সব প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হলে দায়িত্ব হস্তান্তর ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির বেশি সময় নেবে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে ক্ষমতা হস্তান্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব। তিনি বলেন, “সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। যদি তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা শপথ নেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, তাহলে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সরকার আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাও আগের দিন বক্তব্য দিয়েছেন।
এর আগে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, শপথ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এবং এ ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প সামনে রয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন। অন্য বিকল্প হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”
-পতাকানিউজ

