রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বিশেষ পুলিশ এসকর্ট বা বিশেষ নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিলিয়ে আরো ২৫ জন রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই ১৮ মন্ত্রীর প্রটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরে সাধারণত একজন এসআই এবং চারজন কনস্টেবলের একটি দল থাকে। মন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে থাকে এ দল। গাড়ির জ্বালানি খরচ ও তাদের বেতন-ভাতা সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্তে এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা আগের মতোই গানম্যান, বাসভবন নিরাপত্তা (হাউজ গার্ড) এবং ঢাকার বাইরে সফরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের জনবল ও যানবাহনের সংকটও এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যেসব মন্ত্রী পুলিশের এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন তারা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
যাদের পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন— ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম; শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে প্রয়োজন রয়েছে ২ হাজার ৫৭৫ জন সদস্যের। অর্থাৎ প্রায় ৯০০ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়েই একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও যানবাহন নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচ, পুলিশের জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি মেটাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পতাকানিউজ/আরবি

