ঢাকা-সিলেট রেললাইনে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ১৯ ঘণ্টা পর সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
নোয়াপাড়া স্টেশন মাস্টার মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আজ বেলা সোয়া তিনটায় মেরামত ও উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রা শুরু হবে।
এদিকে গত বুধবার দুর্ঘটনার পর রাতে চলাচলকারী চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন ও সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের শিডিউল বাতিল করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস যাত্রী নিয়ে মাধবপুর উপজেলার হরষপুর স্টেশনে সিলেট থেকে সকাল সোয়া ৬টার কিছু পরে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেইনটি শ্রীমঙ্গল শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে এবং সকাল সাড়ে ১০টার পাহাড়িকা এক্সপ্রেস শমসেনগরে আটকে থাকে বলে জানায় শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশন মাস্টার লিটন দাস। গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে দীর্ঘ অপেক্ষায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তেলবাহী ৯৫১ নম্বর ট্রেনের ৫টি ওয়াগন আর ১টি গার্ডব্রেক মনতলা স্টেশন পার হয়ে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে ট্রেনের ৫টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনা জানার পর আশপাশের লোকজন সেখানে ভিড় করেন। অনেকে লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল লুট করেন। পরে খবর পেয়ে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রতিটি ওয়াগনে ৪০ হাজার লিটার তেল ছিল। ৫টিতে প্রায় ২ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছিল বলে ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন। তেল সিলেটের বিভিন্ন ডিপোতে পরিবহণ করা হচ্ছিল।
আজ দুপুর৩ টা ১৫ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকাপড়া ট্রেনগুলো ছেড়ে আসছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এসসি/আরবি

