চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকার ধুনীরপুল থেকে চকবাজার থানার দূরত্ব ১০০ গজ। আর গুলজার মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের দূরত্ব ২০০ গজ। এই দূরত্বের মধ্যে নতুনভাবে তৈরি করা রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার স্ট্যান্ড। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে চলাচল। প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে যানজট। অথচ এ বিষয়ে নাকি কিছুই জানেন না খোদ ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত টিআই। এমনকি ওই জায়গা তিনি চিনেনও না। শুধু মূল সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। কিন্তু চকবাজার ও গুলজার মোড়ে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেন একাধিক ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট। তাদেরও কারো ওইদিকে নজর নেই। তবে থানা-পুলিশের দাবি তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চকবাজার ধুনীরপুল নূর বিতানের সামনে থেকে রাস্তার একপাশ দখল করে আছে দাঁড়িয়ে আছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা। সেখান থেকে উঠানামা ভাড়া ১০ টাকা করে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে রাহাত্তারপুলের উদ্দেশ্যে। লাঠি হাতে একজন মধ্যবয়স্ক লোক গাড়ি সিরিয়ালের দেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন এবং আদায় করছেন টাকাও। ব্যাটারি রিকশার অপরপ্রান্তে রয়েছে সারি সারি ভ্যান গাড়ি। এতে রাস্তার দুপাশ দখলে সংকুচিত হয়ে থেমে থেমে তৈরি হচ্ছে যানজট, পথচারীরা হাঁটছেন ঝুঁকি নিয়ে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় তথ্য বলছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে এই অবৈধ ব্যাটারি রিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। চলছে দাপটের সঙ্গে। ফলে দেখেও না দেখার ভান করে আছেন সবাই। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাফিক পুলিশ বলছে, তারা মূল সড়কে ব্যাটাচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। অলিগুলিতে দেখে থানা-পুলিশ।
থানা-পুলিশ বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান চলমান আছে। তাহলে এই ব্যাটারিরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠল কিভাবে—এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, ফুলতলা ব্রিজের কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধুনীরপুল থেকে ফুলতলা মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল যান চলাচল। চলতি বছরের অক্টোবরের শেষে কাজ শেষে যান চলাচল উন্মুক্ত হওয়ার পর পুরো রাস্তা ও ব্রিজ দখলে চলে গেছে। এই এলাকায় ৫-৬টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের চলাচল। এছাড়া প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগে আছে। অধিকাংশ চালক কিশোর ও মাদকাসক্ত। তারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। ব্যাটারি রিকশা চলাচলের এলাকার কিছু অংশ বাকলিয়া থানায়ও পড়েছে বলে জানান তারা।
পথচারী মো. সোহেল বলেন, ধুনীরপুল থেকে ১০০ গজ দূরে চকবাজার থানা ও ২০০ গজের মধ্যে গুলজার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স রয়েছে। কিন্তু কারো যেন দখল ও অবৈধ যান চলাচল চোখেই পড়ছে না। প্রতিদিন আমাদের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। পুলিশের গাড়ির সামনে ব্যাটারি রিকশা এসে দাঁড়িয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, ‘রাস্তা-ফুটপাত সবকিছু অবৈধ দখলে চলে গেছে। হাঁটাচলার পথ নেই বললেই চলে। এসব নিয়ে বলতে গেলে উল্টো বিপদে পড়তে হয়। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।’
ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাটারি রিকশার চলাচল অসহ্য করে তুলেছে। চোখের নিমিষেই তারা চলে আসে। রাস্তায় চলাচল ও পারাপারের সময় সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু এসব অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রূপম বলেন, ‘জায়গাটি আমি চিনি না। আমরা মূল সড়কে অভিযান পরিচালনা করি। অলি-গলিতে যায় না। অলি-গলির ব্যাটারিরিকশা থানা পুলিশ দেখে থাকে। কোনো ঝামেলা হলে থানা থেকে পুলিশ যায়।’
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে ফোনকল কেটে দেন।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিদিন অভিযান চলমান আছে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এলাকাবাসীকে বলেন পুলিশকে সহযোগিতা করতে। এলাকাবাসী ডাক দেয়া মাত্র আমি চলে যাব। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের বলেন আমাকে ও পুলিশকে সহযোগিতা করতে।’
পতাকানিউজ/আরবি

