শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি হিসেবে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। গত দুই দশক ধরে দলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে তার সঙ্গ অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে নিজের কাঁধে ৭৫টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার বোঝা বহন করতে হয়েছে তাকে, সেইসাথে দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার তদারকিও করেছেন।
নেতাকর্মীদের জন্য এই দীর্ঘ সময়ে মুজিব কখনও পিছুপা হননি। জেলাবন্দি থাকার সময়ও তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন এবং পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। এই নিরলস ত্যাগের কারণে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
দলের ত্যাগী যুবদল নেতা মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একজন কর্মীবান্ধব নেতার যে বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত, হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মধ্যে তার সবই রয়েছে। তার রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে কর্মীবান্ধব চরিত্রের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত দেখা যায়।’
নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি চার বছরেরও বেশি সময় জেল খেটেছি। এই সময় আমার ছোট ভাই কমলগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শামীম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। আমি তখন তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। জেলে থাকার কারণে আমার ব্যবসা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, ব্যাংক ঋণ কয়েকগুণ বেড়েছে এবং আমার পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছিল। পরে আমাকে রাজনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি বিএনপি ছাড়িনি।’ তিনি বলেন, ‘যখন দেখলাম আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খেটছেন, নেতা তারেক রহমান নির্বাসনে এবং অনেক কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে—আমি আর বসে থাকতে পারিনি। নেতাকর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখতে আমি সভা-সমাবেশ চালিয়ে গেছি। এর ফলে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ মামলার এক নম্বর আসামি আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সভায় সরকারি লোকজন তথ্য ফাঁস করত। বহুবার ঈদের নামাজ বাড়িতে আদায় করতে পারিনি। একবার ঈদের নামাজ শেষে সেমাই খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই পুলিশ বাড়িতে আসে। আবার শ্রীমঙ্গল পূর্বাশায় আমার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলা বিএনপির ইফতার পার্টি চলাকালীন পুলিশ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ব্যবসায়িক ক্ষতি সামলাতে গিয়ে শখের বাড়িও বিক্রি করতে হয়েছে। তবে এসব কষ্ট এখন মনে রাখি না। যখন দেখি আমার নেত্রী ও দলের নেতা কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তখন মনে হয় আমার ত্যাগ তার তুলনায় কিছুই নয়। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা যে, আমার নেতা তারেক রহমান আমাকে মূল্যায়ন করেছেন এবং এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচনে বিশ্বাস করেছেন।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী উল্লেখ করেছেন, ‘শ্রীমঙ্গলে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার অধিকাংশই পরিচালনা করেছেন হাজী মুজিব। শুধু মামলা নয়, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া—সবই তার দায়িত্বে ছিল।’
কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি দুরুদ আহমদ বলেন, ‘তিনি শুধু নেতাকর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয়। জেল-জুলুমের মাঝেও মানুষের জন্য কাজ বন্ধ করেননি। দুই উপজেলায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আসন না পেয়েও মানুষের জন্য তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন।’
হাজী মুজিবের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: কুশালপুরে উম্মেরুন্নেছা দাতব্য চিকিৎসালয়, আলেপুরে আব্দুল গফুর মহিলা কলেজ, হাজী মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জহির উদ্দিন চৌধুরী হাফিজিয়া মাদ্রাসা।
সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা: চিশতী ডায়বেটিক সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও দাতব্য চিকিৎসালয়ে যানবাহন প্রদান।
সামাজিক অবকাঠামো: পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর, মঙ্গলপুর ও রানীর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ-ডেস্ক প্রদান ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজ: কামারছড়া ও রাজঘাট চা বাগানে নাটমন্দির ও দেবালয়, মনিপুরি ললিতকলা একাডেমি, প্রেসক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে অনুদান।
রাস্তাঘাট ও জনকল্যাণ: কাঁচা রাস্তা ইটসোলিং, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের বিয়ে সহায়তা।
শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, ‘আমরা এই আসনে তাকে বিপুল ভোট দিয়েছি। আশা করি, তিনি আমাদের একটি মন্ত্রণালয় দেবেন।’
স্থানীয় হেডম্যানরা—ফিলাপত্মী ও জিডিসন প্রধান সুচিয়াং—ও বলেন, ‘হাজী মুজিবুর রহমান একজন সৎ ও শিক্ষিত নেতা। তাঁর সততা ও মানবিকতার কারণে মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। যদি তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তিনি শুধু আমাদের এলাকা নয়, সমগ্র দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’
-পতাকানিউজ/এমআরএম

