২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক অস্ত্র এবং গুলি লুট হয়। লুটের অস্ত্র এবং গুলির বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এর সঙ্গে আছে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কম হওয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই নাখোশ অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীসহ একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে।
এসব খুনের ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে এবং আগামী নির্বাচনেও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় ভোটের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রায় ৭২ কোটি টাকা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ হাজার ৩৯২টি কেন্দ্র এবং বাকি কেন্দ্রগুলো সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে।
এসব কেন্দ্রের ভোটার নিরাপত্তা এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। প্রতি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রশাসনের চাহিদা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ কমানোতে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়ম প্রতিরোধে সিসিটিভি ভূমিকা রাখবে বলে সরকার মনে করছে।
বিশেষত, রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত কিছু এলাকায় ভোটাররা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে দ্বিধা অনুভব করেন। সিসিটিভি স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের উদ্বেগ কমানো সম্ভব হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। বরাদ্দের এই অর্থ ব্যবহার করে সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি স্থাপন শুরু হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি বসানোর কাজ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিয়ম এবং মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হবে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুলিশ বাহিনীর জন্য বডি ক্যামেরা কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, তবে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হলে ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের আশ্বস্ত করতে তা বড় ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে সরকার পর্যালোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছয়টি করে সিসিটিভি বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু নিরাপত্তা বৃদ্ধিই করবে না, ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
এতে ভোটগ্রহণের সময় প্রশাসনের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণও সহজ হবে। এছাড়া, সিসিটিভির ভিডিও রেকর্ডিং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অভিযোগ নিষ্পত্তি বা তদন্তেও কাজে আসতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগ ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন করা হলে ভোটের সময় যেকোনো অনিয়ম বা সংঘাতের আশঙ্কা কমবে এবং ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে পারে।
-পতাকানিউজ/এসএমআর

