বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা তিসিগাড়ি থেকে চেঙ্গা পাল পাড়া হয়ে ডিমশহর স্কুল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক। সড়কটির সংস্কারসহ কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়নি দীর্ঘ ৫ বছরেও। ২০২০ সালের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতে ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা সমতল করা হয়। এরপর মাঝপথে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান ঠিকাদার। এরপর থেকে এখনও বন্ধ রয়েছে কাজ। ইতিমধ্যে ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। এতে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কের সংস্কারসহ কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের উপজেলা সদরের তিসিগাড়ি থেকে চেঙ্গা পালপাড়া হয়ে ডিমশহর স্কুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের অধিক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের চেঙ্গা পালপাড়ার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। প্রায় দুই কিলোমিটারের অধিক সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের পাথর ও খোয়া উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়। ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট প্রকল্পটি শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নির্বাচিত ঠিকাদার ২০২০ সালের প্রথমার্থে প্রকল্পটির কাজ শুরুও করেন। কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান।
ভুক্তভোগী চেঙ্গা গ্রামবাসী হারুন অর রশিদ, স্বপন পাল, রঞ্চিত কুমার পাল, ফনিন্দ্রনাথ পালসহ অনেকেই জানান, সড়কটি সংস্কার কাজ মাঝপথে ফেলে রাখায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত অবস্থায় পরিণত হয়। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে ভরে থাকে। এছাড়াও খোয়াগুলো উঁচু-নিচু হয়ে বের হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষসহ যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অটোভ্যান, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলের টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঠিকাদারের গাফিলতের কারণে ২০২০ সালে শুরু হওয়া কাজটি আজও শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ কামরুল হাসান জানান, প্রকল্পের বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন কাজটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারও কাজ ফেলে রেখে চলে যান।
তিনি বলেন, ‘এরই মাঝে বরাদ্দ এলেও ঠিকাদার আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যোগাযোগ হওয়ার পর বর্ষাকাল শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে কাজের বিলম্ব ঘটছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কের সংস্কারসহ কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

