৩০ বছর পর আবারও মুখোমুখি হয়েছেন নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদুজ্জামান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে এবং সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে একই আসন থেকে দুজন প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আগের চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের হয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথম তিনি জনতা মুক্তি পার্টির হয়ে কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই সময় তিনি ২ হাজার ১৮০ ভোট পান। সেই নির্বাচনে মোট ১১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো শাহাদুজ্জামান ৩৩ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট পান ১৯ হাজার ৮৭১টি। সেই নির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম হাফিজুর রহমান, জামায়াতের মাওলানা মো. শাহাদুজ্জামান, জাতীয় পার্টি শরিফুল ইমলাম জিন্নাহ এবং গণফোরামের মাসুদার রহমান হেলালসহ মোট ৫ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ৭৪ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম হাফিজুর রহমান নির্বাচিত হন। জামায়াত প্রার্থী ২৪ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
দুই নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না ও মাওলানা মো. শাহাদুজ্জামান প্রার্থী হলেও গত ৩০ তারা দুজন একসঙ্গে আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হননি। যদিও ২০০১ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না নৌকার প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৩৬ হাজার ৭৫০। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৫৯ হাজার ৭১৩। কিন্তু এ দুটি নির্বাচনে জামায়াত আর কোনো প্রার্থী দেয়নি।
এদিকে ৩০ বছর পর তারা আবার একে অপরের মুখোমুখি প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় সরব আলোচনা চলছে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যর (কেতলি) মাহমুদুর রহমান বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু (সিঁড়ি), গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল)।
অপরদিকে নির্বাচনের পরিবেশ নেই অভিযোগ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রার্থী (লাঙ্গল) শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
একটি উপজেলা ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ৫ জন।
ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম শাহাদাতুজ্জামান জানান, তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর এমপি না হলেও ভোটার তথা আসনের জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাই এলাকার ভোটাররা জামায়াত ইসলামকে পছন্দ ও ভালোবাসে। তিনি আশা করেন নির্বাচনে জনগণ দলমত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন।
নাগরিক ঐক্য বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় বিগত কয়েক বছরে মান্নার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে মান্না বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

