মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়ক্ষেপণ কমাতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে যে বছর দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ করে, তার পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও। এর ফলে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেকে প্রায় দুই বছর সময় কার্যত হারিয়ে যায়, যা শিক্ষার্থী ও জাতীয় জীবনের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। অতীতে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যেভাবে নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল, ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময় কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেন।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা ও সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
-তথ্যবিবরণী

