চলতি বছরের ২০ এপ্রিল প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বগুড়া সফরে আসেন তারেক রহমান। সেই সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাত্র ৯ দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে একটি চিঠি জারি করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পর সরকারি হতে যাচ্ছে বগুড়ার বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার, ২৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলাধীন শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন।
সরকারিকরণের পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠানো এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আর্থিক সংশ্লেষ আছে কিনা সে বিষয়ে আইন উপদেষ্টার মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে দ্রুত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার একর জমির ওপর ১৯৯৩ সালের ২১ এপ্রিল কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয়। কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ও অনার্স কোর্সে মোট ১ হাজার ২৮৫ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক কোর্সে আছে অন্তত ৮০০ জন। বর্তমানে শিক্ষক আছে ৬৪ জন। এ ছাড়া আরও ২৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি আছে এ কলেজে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কলেজ ও স্থানীয়দের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।
প্রবীণ ব্যক্তি আল মনসুর রহমান বলেন, শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ এ অঞ্চলের জন্য আশির্বাদ। কিন্তু কলেজটিতে বিগত সময়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখানে শিক্ষার মান উন্নত রাখলে আশেপাশে অধিকাংশ দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। জাতীয়করণের ঘোষণার ফলে এখন সেই প্রতিবন্ধকতা আর থাকছে না।
ব্যবসায়ী তুষার আহমেদ জানান, বাগবাড়ি এলাকাটি তিনটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানকার আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষ উপজেলা শহরে বা জেলা শহরে যাওয়া কষ্টসাধ্য। এ কারণে অনেক পরিবারের সন্তানদের পড়ালেখা বেশিদূর এগোয় না। কিন্তু শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ এই পরিবারদের আশার আলো হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার কথা রেখেছেন। ঘোষণা অনুযায়ী এটি জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান আরও ভালো হবে।
জাতীয়করণের চিঠি আসায় অত্যন্ত খুশি শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলে রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন সিদ্ধান্ত কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবার জন্য ভালো। গত ২৯ এপ্রিল চিঠি এসেছে। এখন সম্ভবত অধিদপ্তর থেকে পরিদর্শনে আসবে। আশা করছি এসব কাজও খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে।
কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুল বারী বলেন, আমাদের কলেজ এমপিওভুক্ত হলেও অবকাঠামো অথবা শিক্ষার মানগত উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও ডিগ্রি আছে। ভুগোল ও মনোবিজ্ঞান দুটি বিভাগ নিয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ল্যাব দেয়া হয়নি। ক্লাসরুম ও বইয়ের সংকট দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর চিঠি আসাতে আমরা আশার আলো দেখছি। এখন আপাতত আমরা নথিপত্র প্রস্তুত করছি। পরিদর্শনে আসলে সেগুলো উপস্থাপন করব।
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরকালে বাগবাড়ির কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় স্থানীয় জনতা কলেজটি সরকারি করার দাবিতে স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এটি সরকারি করার ঘোষণা দেন।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

