সফরকারি পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ২০২ রানের বিশাল জয়ে ইতিহাস গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদে অনুষ্টিত এ ম্যাচে শাই হোপের নেতৃত্বে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল দীর্ঘ ৩৪ বছর পর।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল ১৯৯১ সালে। যখন বিশ্বকাপ ট্রফি পাকিস্তানের ঘরে আসেনি। এমনকি বর্তমান ক্যারিবীয় দলে থাকা কোনো খেলোয়াড়ের জন্মও হয়নি তখন। সেই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল।
এরপর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা ১০টি ওয়ানডে সিরিজে জিতেছে পাকিস্তান। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২০১১ সালে (এক ম্যাচের সিরিজ) একবার জিতলেও, একাধিক ম্যাচের কোনো সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্য আসেনি ২০০০ সালের পর। ওই সময় ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে জয় ছিল তাদের শেষ কীর্তি। এর পরবর্তী ২৪টি সিরিজে পাকিস্তান জিতেছে ২০টি, আর বাকি চারটি ড্র হয়েছে। এবারকার জয় শুধু বিরলই নয়, ২০২ রানের ব্যবধান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান জেইডেন সিলসের। পেসার সিলস মাত্র ১৮ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার গড়েছেন। তার বিধ্বংসী স্পেলে পাকিস্তান নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের দশম সর্বনিম্ন ৯২ রানে গুটিয়ে যায়। সিলস পাকিস্তানের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে আউট করেন, যার মধ্যে সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান কোনো রান করতে পারেননি, আর বাবর আজম ফেরেন মাত্র ৯ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন সালমান আগা, আর অপরাজিত ২৩ রান আসে মোহাম্মদ নওয়াজের ব্যাট থেকে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯৪ রান তোলে। ইনিংসের নায়ক শাই হোপ অপরাজিত ১২০ রান করেন ৯৪ বলে, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম সেঞ্চুরি। সপ্তম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভসকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৫০ বলে ১১০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। শেষ সাত ওভারে এই জুটি যোগ করে ১০০ রান। গ্রিভস অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৪৩ রান করে।
হোপের ১৮ সেঞ্চুরি এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ, তিনি পেছনে ফেলেছেন ডেসমন্ড হেইন্সকে (১৭)। তাঁর সামনে আছেন শুধু ব্রায়ান লারা (১৯) ও ক্রিস গেইল (২৫)। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে হোপ খেলেছেন ১৩৭ ইনিংস, যেখানে এর চেয়ে দ্রুত পৌঁছেছেন কেবল বাবর আজম (৯৭), হাশিম আমলা (১০২), ডেভিড ওয়ার্নার (১১৫) ও বিরাট কোহলি (১১৯)।
এটি শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং পাকিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার অবসান ঘটিয়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের সূচনা।
পতাকানিউজ/ওয়াইএস

