৩৫ বছর অবকাঠামো সমস্যায় ভুগছে লামার সরই উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আজ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ বছরের সমস্যার সমাধান আজও হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০ আর শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের থেকে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদাচারণায় পরিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। কিন্তু শ্রেণিকক্ষসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। যেখানে ১০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, সেখানে রয়েছে মাত্র ৫টি। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে বিদ্যালয়টি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সমস্যা নিরসনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ জব্বারিয়ার সঙ্গে হওয়া চুক্তিপত্র মতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও ভবনের উন্নয়ন কাজ মাত্র ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের কাজের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের সমস্যার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। এ সপ্তাহ থেকে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে।’
সরজমিনে বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটে নির্মাণাধীন ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করছে। বৃষ্টি হলেই আর ক্লাশ হয় না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন দুটি ভবনে যে কক্ষ রয়েছে তাতে ৫টি শ্রেণির ক্লাশ সংকুলান হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অসমাপ্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ৩-৪টি রুমে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশন সমস্যা রয়েছে। দুর্গম এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়তে আসে। স্কুলের আবাসিক ব্যবস্থা আরও বড় করা দরকার। অপ্রতুল সেবার মাঝেও এখন ছাত্রাবাসে ৫ জন ছাত্রী থাকে।’
স্কুলের অভিভাবক সামশুল ইসলাম, নুরুন্নাহার বেগমসহ অনেকে জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে আরও আন্তরিক হওয়া দরকার। অন্যান্য স্কুল থেকে এখানে পরীক্ষা, ফরম ফিলাপসহ নানা ফি বেশি। অনেক শিক্ষকরা স্কুল থেকেও কোচিং বাণিজ্যে বেশি জড়িয়েছে। এ স্কুলের এসএসসি শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। অভিভাবকরা স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র আনার জোর দাবি করেন। চলতি বছর ৫৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীতি পূর্ণ বড়ুয়া বলেন, ‘মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক অবকাঠামো এবং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির বিকল্প নেই। আমি ২০০৪ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতায় আমরা শিক্ষা মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি।’
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের ছাড় দেয়া হবে না।’
পতাকানিউজ/এমজেসি/আরবি

