১৯৮৯ সালের এক মামলায় মৃত ৪ আসামিসহ চার্জশিটভুক্ত ৫ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান আদালতে এ রায় দেন। চট্টগ্রাম নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজে ককটেল, বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধারের মামলার এজহারকারী-আসামি প্রায় মারা গেছেন।
৩৬ বছর পুরোনো এ মামলায় বেঁচে আছেন একমাত্র আসামি কনক। তবে আদালতের নথিতে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাহেদ কবির পতাকানিউজকে বলেন, ‘ওই মামলায় আওয়ামী নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি নথিতে রয়েছে। এতে চার্জশিটভুক্ত বাকি ৫ আসামি পলাতক হিসেবে রয়েছে। আদালত আজ তাদের সকলকে খালাস দিয়েছেন।’
অন্য ৪ আসামির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জানা আছে তারা মারা গেছে। তবে তা আদালতের নথিতে নেই। এ মামলায় ৩ জন সাক্ষী দিয়েছে। এছাড়া বাদী আংশিক সাক্ষী দেয়ার পর আর আসেনি।’
ঘটনার দিন যা ঘটেছিল
১৯৮৯ সালের ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজ থেকে মাইক্রোবাসে করে গিয়ে একদল দুর্বৃত্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গোলাগুলি করে। এ ঘটনায় এমইএস কলেজে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। কলেজ সংসদের পাশে কলেজ গুদামে মাটির নিচে বস্তাবন্দী করে রাখা বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এতে ১টি কাটা রাইফেল, একনলা বন্দুক, ২২টি ককটেল, ৪টি হাত বোমা, বোমা তৈরির বিস্ফোরক পাউডার পাওয়া যায়। ডবলমুরিং থানার তৎকালীন এসআই সামসুল হক বাদী হয়ে সমীর দাশ, মো. জহির, অশোক চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, জাহিদ হোসেন, চন্দন কুমার ভৌমিক, কনক, লোকমান হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি মামলা তদন্ত শেষে সমীর, জহির, মামুন, জাহিদ, কনক ও চন্দনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এতে সাক্ষী রাখা হয় ১৪ জনকে। ১০ জন পুলিশ সদস্য, এমইএস কলেজের তৎকালীন শিক্ষক মোর্শেদ কুলী খান ও ৩ জন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যক্তি। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।
২০০০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় সর্বশেষ সাক্ষ্য দেন ডবলমুরিং থানার তৎকালীন এসআই সুলতান আহমেদ। এরপর ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও অস্ত্র ও বিস্ফোরকের এ মামলায় মাত্র ৩ জনই সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০০৩ সালে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি মিস মামলা করেন চট্টগ্রামের সাবেক আওয়ামী নেতা মামুনুর রশিদ মামুন। ওই সময় আদালত তার বিচারিক কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত সেই স্থগিতাদেশের বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন।
এ মামলার ৬ আসামির মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় ২০২২ সালের ১০ আগস্ট আসামি জাহিদ, সমীর, জহির ও চন্দনের খোঁজ নিতে পুলিশকে আদেশ দেন তৎকালীন বিচারক। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানার এসআই সোমনাথ পাল আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সমীর দাশ। চন্দন কুমার ভৌমিকের আত্মীয় জানান তিনি মারা গেছেন। ২০১৫ সালের ১৯ মে মারা যান জহির ও যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান জাহিদ। চলতি বছরের ১৯ জুলাই মারা যান মামুন।
পতাকানিউজ/আরএস/কেএস

