বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারাগ্য পাড়া এলাকায় হাতির শাবকের মরদেহ পাহাড়া দিচ্ছে হাতি দম্পতি।
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল সকালে স্থানীয়রা একটি মাছের প্রজেক্টে মৃত শাবকটিকে ঘিরে দুটি পরিপক্ক হাতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয়দের ধারনা, মৃত শাবকটি ওই হাতি দম্পতির।
এদিকে টানা ৩ দিন ধরে হাতি দম্পতি শাবকটিকে পাহাড়া দেয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তারা গভীর জঙ্গলে চলে গেলে বন বিভাগের লোকেরা মৃত শাবকটির ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে একটি হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। মানুষের তাড়া খেয়ে পালটি গহীন পাহাড়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গত মঙ্গলবার হাতির পালটি ফিরে যাওয়ার সময় সোনাইছড়ির মারাগ্য পাড়ার পশ্চিম পাশে মংবেছা মেম্বারের গোদার পাড় এলাকায় একটি মাছের প্রজেক্টে শাবকটি পড়ে যায়। তবে মা হাতি আশপাশে অবস্থান করায় ভয়ে কেউ উদ্ধার কাজে এগিয়ে যেতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা বনবিভাগে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে মৃত শাবকটির পাশে দুটি হাতিকে দেখে তারাও ফিরে যান।
এরপর বুধবার সকালে গিয়েও একই অবস্থা দেখে তারা চলে আসেন। পরে আজ সকালে গিয়ে হাতি দুটিকে দেখতে না পেয়ে মৃত শাবকটির ময়নাতদন্ত শেষে মাটি চাপা দেন।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার ছ্যালা থোয়াই মার্মা বলেন,গত কয়েকদিন ধরে হাতির পাল লোকালয়ে ঘোরাফেরা করছিল। মানুষের চাপে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। শাবকটি গর্তে পড়ে যাওয়ার পর মা হাতির উপস্থিতির কারণে কেউ যেতে পারেনি।’
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম কিন্তু দুটি হাতি থাকায় আমরা ফিরে আসি। পরে কক্সবাজার দক্ষিণ বনাঞ্চলের কর্মকর্তাদের খবর দিলে তারাসহ আজ গিয়ে ময়নাতদন্ত করে মৃত শাবকটিকে মাটি চাপা দেয়া হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
পতাকানিউজ/আরআর/আরবি

