জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সাড়ে চার বছর বয়সের নাঈম নামের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে সৎ মা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে বাবা পলাতক।
রবিবার, ৩০ নভেম্বর সকাল ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলার গিলাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর বাবার নাম জলিল শেখ। সৎ মা জাহানারা বেগম তাকে দেখাশুনা করতো।
গ্রামবাসী জানায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর একই গ্রামের জলিল শেখ দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জন্ম নেয় দুই সন্তান জান্নাতি ও নাঈম। প্রায় চার বছর আগে তাদের রেখেই মারা যান লিপি বেগম। পরে জলিল শেখ তৃতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগমকে বিয়ে করলে নাঈম ও জান্নাতির আশ্রয় মেলে সৎ মায়ের কাছে। কিন্তু জাহানারা বেগমের পুত্র সন্তান জন্ম নিলে কপাল পোড়ে নাঈম ও জান্নাতির।
প্রতিবেশি ও নাঈমের মামার অভিযোগ প্রায়ই মারধর করা হতো তাদের। এরই জেরে আজ সকাল ১১টায় বাবার অনুপস্থিতিতে নাঈমকে বাসার ভেতরে মারধর করে জাহানারা বেগম। একপর্যায়ে নাঈম নিস্তেজ হয়ে পড়লে জাহানারা প্রতিবেশিদের ডাকেন। প্রতিবেশিরা এসে ঘরের মেঝেতে নাঈমকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালচে দাগ ও মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান তারা। ঘটনার পর এলাকার লোকজন জাহানারা বেগমকে আটকে রাখেন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে নাঈমের মরদেহ করে জাহানারা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার পর থেকে নাঈমের বাবা জলিল শেখ পলাতক আছেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেশি নাজমিন আক্তার নাজু বলেন, ‘জাহানারা বেগম আমাদের এসে ডাকাডাকি করলে তাদের বাসায় গিয়ে নাঈমকে মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালচে দাগ ও মাথায় রক্তাক্ত গভীর ক্ষত দেখতে পেয়েছি।’
নিহত নাঈমের মামা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘নাঈমকে তার বাবা ও সৎ মা প্রায়ই মারধর করতো। তাকে ইট ও পাথর দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বাথরুমে রাখা হয়েছে। প্রতবেশিরা বাড়ি থেকে তাকে মৃত অবস্থায় বের করে আনে। তার সৎ মা জাহানারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, ‘শিশু নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে তার সৎ মাকে আটক করা হয়েছে। তার বাবা পলাতক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/এসি/আরবি

