নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে এগিয়ে এসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১৪টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার জানিয়েছেন, ‘আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এই আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতারা। সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করবেন। তার ভাষায়, ‘দেশে যে অরাজকতা চলছে, তার একমাত্র সমাধান নির্বাচন—এ কথা সরকার এখন বুঝতে পেরেছে।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এই ব্যর্থতা সরকারের।’ এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজকের বৈঠকে আরও অংশ নেন জাতীয় গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের ড. মুশতাক হোসেন, এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজ, জাকের পার্টির শামীম হায়দার, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাসদ-মার্কসবাদীর মাসুদ রানা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর ২৩ জুলাই আরও ১৩ দলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তিনি। আজ ছিল এ আলোচনার তৃতীয় পর্ব।
এখন সকলের দৃষ্টি প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত সময়সীমার দিকে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান টানবেন তিনি।
পতাকানিউজ/এনটি

