সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরনের জন্য প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন নদী, সমুদ্র ও সাগরের মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১১ দিন পরও ফেনীর সোনাগাজীতে নিবন্ধিত জেলে পরিবারের কাছে সরকারী সহায়তা পৌছায়নি। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পেরে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলেরা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। পেটের দায়ে অনেকে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সোনাগাজী সদর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৯৭ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা প্রায় ১৫শ জন। প্রজনন মৌসুমে উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে মাত্র ২৭৫ জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১০দিনেও জেলেদের কাছে সহায়তা পৌঁছায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চর খোন্দকার, দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া ও পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার জেলে পাড়ায় সহায়তা না পেয়ে জেলারা অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেকে পেটের দায়ে রাতের আধারে নৌকা-ট্রলার নিয়ে নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করে সূর্য উঠার আগের তীরে ফিরে এসে মাছগুলো আড়তদার ও বেপারীদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
নিবন্ধিত জেলেরা জানায়, সোনাগাজীতে প্রায় ৩ হাজার জেলে রয়েছে। সরকারিরভাবে মাত্র ২ হাজার জেলেকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেরাও সরকারি সহায়তা না পেয়ে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
চর খোন্দকার জেলে পাড়ার প্রিয় লাল জল দাস বলেন, ‘নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ। অনেক কষ্টে জীবিকা চলছে। কেউ কেউ বিভিন্ন সড়কের পাশে জলাশয় ও পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের আহারের ব্যবস্থা করছেন। অনেক জেলে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারায় ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না।’
হারাধন জল দাস বলেন, ‘ভূমিদস্যুরা নদী দখল করে বড় বড় মাছের খামার গড়ে তোলায় এমননিতে নদীতে মাছ কমে গেছে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান না। সরকারি সহায়তাও পাননি। ফেনী নদীর তীরে মশারির জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা মাছ ধরে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন।’
সদর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মাহিদুল হাসান বলেন, ‘সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চালগুলো পাওয়া মাত্রই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করবেন।’
জানতে চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার পাল বলেন, ৫৮দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এসময়ে জেলেদের সুবিধার্থে সরকারীভাবে নিবন্ধিত প্রায় ২ হাজার জেলের মধ্যে সমুদ্রে মাছ ধরের এমন ২৭৫ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে চালগুলো বিতরণ করা হবে। সরকারিভাবে আর কোনো সাহায্য আসার সম্ভাবনা নেই। তবে অন্য জেলেদের জন্যও সাহায্য পেতে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

