মাত্র ৫ টাকা চেয়ে না পেয়ে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের এক বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে (কেয়ারটেকার) ছুরিকাঘাতে খুন করার অপরাধে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো কাজল (৪৩) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার জারিয়া গ্রামের মো. ফজল আলীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত রায়ে বলেছেন, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জুলহাস মিয়া (৫০) রাজধানীর ইন্ডিয়া রোডের একটা বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় তিনি ইন্দিরা রোডের ‘রাজা এন্ড কোং’ নামক সিমেন্টের দোকানের সামনে গেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজল তার কাছে ৫ টাকা দাবি করেন। জুলহাস মিয়া টাকা দিতে দেরি করায় তার পেটে ছুরি মেরে মারাত্মক জখম করেন কাজল। এসময় উপস্থিত লোকজন জুলহাস মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কাজলকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় মৃত জুলহাস মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ২০১৮ সালের ২১ মার্চ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
তদন্তে জানা যায়, আসামি কাজল রাজধানীতে ভাসমান হিসেবে জীবনযাপন করতেন। মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চেয়ে নিয়ে জীবনধারণ করতেন।
শেরেবাংলা নগর থানার তৎকালীন এসআই সোহানুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

