নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৮০ দিনের কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজ মূল্যায়ন করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দায়িত্বে গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করতেও দ্বিধা করা হবে না।
বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবদের সঙ্গেও পৃথক সভা করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের কাছে সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয় তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
নতুন মন্ত্রিপরিষদের সূচনা
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পাঁচজন এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আরও পাঁচজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি ১০ জন উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতির বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে আগামী ১৮০ দিনের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব পরিকল্পনা একত্র করে সরকারের সামগ্রিক কর্মরূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
এই কর্মপরিকল্পনায় দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আলাদা দিকনির্দেশনা দিয়ে দ্রুত—এক থেকে দুই দিনের মধ্যে—প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও রমজান অগ্রাধিকার
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রমজান উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সাহ্রি, ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। রোজা ও ঈদ সামনে রেখে যাতায়াতব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের অবস্থা পর্যালোচনা করে সমস্যা থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে ঈদযাত্রায় জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মন্ত্রীদের কর্মপরিকল্পনা, কাজের গতি ও সততা তিনি সরাসরি তদারকি করবেন। ছয় মাস পর এই ১৮০ দিনের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যা বললেন মন্ত্রীরা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণের প্রচলন থাকলেও এবার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনগণ নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে—তাই ইশতেহার বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনে ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা বা ‘অ্যাফিলিয়েশন’ নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল, যা দ্রুত জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এটি আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠক না হয়ে সৌজন্যমূলক সভার মতো ছিল, যেখানে মন্ত্রীরা ও উপদেষ্টারা একসঙ্গে মতবিনিময় করেন।
-পতাকানিউজ

