পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৮টি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে নিশী রহমান (৪২) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এরপর একইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমপুর স্কুলপারা মোড়স্থ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বের জনৈক বিদ্যুৎ সাহেবের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নিশী রহমান ঈশ্বরদী উপজেলার ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) আকলিমা খাতুন জানান, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে প্রাণী কল্যাণ আইন’২০১৯ এর ৭ ধারায় রাত ৯ টায় উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশী রহমানকে একমাত্র আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।
এদিকে কুকুরছানাকে পানিতে ডুবিয়ে মারার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত এবং ভাইরাল হয়। এতে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনাসহ তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর শাস্তি দাবি জানানো হয়।
অপরদিকে এ ঘটনা অমানবিক দাবি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ফোন করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে জানান, এ ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তাই প্রাণী হত্যায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তাই অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে মামলা করতে হবে। একইসঙ্গে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ফোন করে তার পক্ষে মামলা করার জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেন।
এছাড়া এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে অ্যানিমেল অ্যাকটিভিস্ট কমিটির একটি তদন্ত টিম ঈশ্বরদীতে এসেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ দিন পূর্বে উপজেলা পরিষদের আবাসিকের একটি বাসার সিঁড়ির নিচে একটি কুকুর ৮টি ছানা প্রস্রব করে। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মা কুকুরটিকে খাবার দিতো। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর থেকে মা কুকুরটি ছানাগুলোকে না পেয়ে পুরো আবাসিক এলাকাজুড়ে ডাকাডাকিসহ আর্তনাদ শুরু করে। ছানাগুলোকে খুঁজে পেতে আবাসিকগুলোতে উঠানামা করতে থাকে। পরের দিন সকালে উপজেলার কর্মচারীরা মা কুকুরটি আর্তনাদের কারণ জানতে খোঁজাখুজি শুরু করে। একপর্যায়ে উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের শিশু ছেলে আফান জানায় তার মা কুকুরছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আফানের দেখিয়ে দেয়া পুকুরে নেমে উপজেলা পরিষদের বাগানের মালি জাহাঙ্গীর বস্তাটি তুলে আনেন। বস্তার মুখ খুলতেই দেখা যায় ৮টি কুকুরছানা মারা গেছে। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। বিষয়টি অমানবিক। আমি খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, বর্তমানে মা কুকুরটিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে বিশেষ পরিচর্যা।
আইনজীবি অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম দুলাল বলেন, দন্ডবিধির ৪২৯ ধারার অধীনে অপরাধীকে দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে মঙ্গলবারের মধ্যে গেজেটেড কোয়ার্টার ছাড়তে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। জেনেছি তারা বাসা খালি করে অন্যত্র চলে গেছেন।
পতাকানিউজ/এসএমএইচ/আরবি

