যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, মুসলিম ভোটারদের ৯৭ শতাংশই তাকে সমর্থন করেছেন।
সোমবার, ১০ নভেম্বর প্রকাশিত মুসলিম অধিকার সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
সিএআইআরের বিশ্লেষণে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ইসলামবিরোধী বক্তব্যের প্রতি ক্ষোভ থেকে মুসলিম ভোটাররা এবার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিতেও মুসলিম ভোটারদের ভোট প্রবণতা একই ধারা অনুসরণ করেছে।
ভার্জিনিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে মুসলিম প্রার্থী গাজালা হাশমি পেয়েছেন মুসলিম ভোটারদের ৯৫ শতাংশ সমর্থন। আর মধ্যপন্থী অমুসলিম প্রার্থী অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার ও মিকি শেরিল পেয়েছেন মুসলিম ভোটারদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট।
সংস্থাটির মতে, এবারের নির্বাচনে মুসলিমদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। তাদের ভোটের হার ও উপস্থিতি প্রমাণ করে, মার্কিন মুসলিমরা এখন শুধু দর্শক নন, বরং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
সিএআইআর আরও জানিয়েছে, চারটি অঙ্গরাজ্যে মুসলিম ভোটারদের উৎসাহ ও উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। ইসলামবিরোধী প্রচারণা এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যের পরও তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম ভোটাররা ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের মুখেও নিজেদের অধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ভোট দিচ্ছেন, এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি।
এবারের নির্বাচনে ৭৬ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাদের মধ্যে ৩৮ জন জয়ী হয়েছেন। মিশিগানের ডেট্রয়েট, হ্যামট্রামিক ও ডিয়ারবর্নসহ বেশ কয়েকটি শহরে মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আগামী ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পতাকানিউজ/এআই

