ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও মুঠোফোনসহ মালামাল লুটের ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাকের মারা গেছেন। বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর, রবিবার মধ্যরাতে ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের দেওয়ানজী বাড়ি পুকুরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ বাকের (৪৩) লেমুয়া ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া গ্রামের খায়েজ আহম্মেদের ছেলে। বাকেরের স্ত্রী খালেদা আক্তার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দাফন করা হবে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, লেমুয়া বাজারের ব্যবসায়ী বাকের রবিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেওয়ানজী বাড়ি পুকুরের সামনে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। পরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এসময় তার কাছে থাকা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা, মুঠোফোন ও মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বাকেরের স্ত্রী খালেদা আক্তার জানান, রবিবার রাতে বাকের বাড়িতে না আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তাকে খুঁজতে বের হই। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকেরকে দেওয়ানজী পুকুর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেয় স্থানীয়রা। তার মুখে ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামে পাঠায়। আজ তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ফেনীর বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাকেরের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মো. শাহজাহান সুজন ওরফে নাইজেরিয়ান সুমন (২৪) ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া মুহুরী বাড়ির আবুল কাশেম ফকিরের ছেলে। অপরজন মো. শাকিল খাঁন রনি (২২) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর স্লুইসগেট এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন ১২ ডিসেম্বর ফেনীর আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

